রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন: বৈরী আবহাওয়ায় মানুষের ঢল

ভয়েস প্রতিবেদক:

দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়া সত্বেও বিপুল সংখ্যক পর্যটক আর ভক্ত পুজারি দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে হয়ে গেল দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন। রং ছিটানো আতশবাজি ফুঁটিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে বের করা হয় শোভাযাত্রা। ঘুর্ণিঝড় আমুনের ৬ নাম্বার বিপদ সংকেতের মধ্যে বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতে সমাগম হয় পর্যটক আর পুজারিদের ঢল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কখনো গুড়ি গুড়ি আবার কখনো ভারি বৃষ্টিপাত হয় কক্সবাজারে। সন্ধ্যায় নানা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দুর্গ উৎসবের।

কক্সবাজার জেলা পুজা উদযাপন কমিটি সূত্র মতে, সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৫১টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে কক্সবাজারের রামুর বাঁকখাল নদী, চকরিয়ার মাতামুহুরী, টেকনাফের সাগর ও নাফনদী, উখিয়া ও রেজুনদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। রামু ও চকরিয়ায় পৃথক প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দুপুর ২টার পর থেকে জেলার উখিয়া, টেকনাফ, সদর, ঈদগাঁও, চৌফলদন্ডী ছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা আসতে শুরু করে। প্রতিমায় ভরে যায় অনুষ্ঠানস্থল। বিকেল সাড়ে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সৈকতের বালুচরে রাখা দুর্গা প্রতিমা ঘিরে চলে ভক্তদের শেষ আরাধনা। শুধু তাই নয়, নাচে-গানে এক অন্য রকম আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় বিশ্বের দীর্ঘতম এ সৈকতে। প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানকে ঘিরে সমাগম ঘটে পর্যটকসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষের।

কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে চলে প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান। কক্সবাজার জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উজ্জল করের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংসদ সদস্য কানিছ ফাতেমা আহমেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো জিল্লুর রহমান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, কক্সবাজারের পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান প্রমুখ।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কর বলেন, ‘জেলায় ৩১৫ টি পুজা মন্ডপে পুজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫১ টি প্রতিমা পুজা আর ১৬৪ টি ঘট পুজা। প্রতিটি পুজো মন্ডপে ছোট বড়ো ৬টি প্রতিমা রয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে প্রবেশের মুখে চেকপোস্ট স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের দিনে সমুদ্র সৈকতে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। বিচের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ওয়াচ-টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেল্প ডেস্ক রয়েছে। কেউ বিপদে পড়লে আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারব।

উল্লেখ্য, পুজা চলাকালিন সময়ে কোন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পূজাকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে তাই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। সকল পূজা মন্ডব নজরদারি তৎপরতা চোখে পড়ার মত ছিল।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION